logo wallpaper
সরিষা চাষে ঝুকে পড়ছেন কৃষকরা

জয়পুরহাটে গত মৌসুমের তুলনায় সরিষা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্য ফসলের তুলনায় খরচ কম এবং লাভজনক হওয়ায় সরিষা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। গত বছরের বোরো ধান এখনো অনেক কৃষকের ঘরে মজুত থাকায় এবার আমন ধানেরও দাম কম হওয়ায় বিকল্প ফসল হিসেবে সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েছেন অনেকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানা গেছে, চলতি ২০১৮-১৯ রবি মৌসুমে জেলায় ১১ হাজার ১শ’৫৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল। আর সরিষা চাষ হয়েছে ১১ হাজার ৩শ’১৫ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩শ’৯০ মেট্রিক টন সরিষা। গত মৌসুমের তুলনায় ৫শ’ ২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা বেশি চাষ হয়েছে।

সদর উপজেলার কৃষক আফজাল,নজরুল, ক্ষেতলাল উপজেলার তোফাজ্জল, মোস্তফা সহ একাধিক কৃষক জানান, ইদানিং ধান চাষ করে লোকসানে পড়ার কারণে তারা আগাম জাতের সরিষা চাষ করেছে। এছাড়াও সরিষা উৎপাদনে সার কম প্রয়োগ করতে হয়, সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানীর প্রয়োজন হয় না। খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল চাষ হয়।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেরাজুল ইসলাম সাজু জানান, গত ২০১৭-১৮ মৌসুমে জেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছিল এবং এবারও আবাহওয়া অনুকুল থাকলে সরিষারর বাম্পার ফলন হবে। তিনি আরো জানান, উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা চাষ করার জন্য বিএডিসি ৭ হাজার ৩শ’৫০ কেজি উন্নত মানের সরিষা বীজ সরবরাহ করেছে কৃষকের মাঝে। কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের সরিষা বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। উন্নত জাতের সরিষা বীজের মধ্যে রয়েছে বারি-১৪, ১৭ ও সম্পদ।

এবার চলতি মৌসুমে উপজেলা ভিত্তিক সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৩শ’৩০ হেক্টর, পাঁচবিবি উপজেলায় ৪ হাজার ৫শ’৯০ হেক্টর, আক্কেলপুর উপজেলায় ১ হাজার ৩শ’৬০ হেক্টর, ক্ষেতলাল উপজেলায় ১ হাজার ৩শ’৫০ হেক্টর এবং কালাই উপজেলায় ৫শ’২৫ হেক্টর জমিতে এবার সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুধেন্দ্র নাথ রায় জানান, জেলায় সরিষা চাষ সফল করতে কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি সরিষা সংরক্ষণের জন্য উপকরণ হিসেবে ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও কৃষক পর্যায়ে উন্নত জাতের বীজ সংরক্ষণ প্রকল্পের অধীন কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করে আসছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here