bangladesh parlament জাতীয় সংসদ
জাতীয় সংসদ ভবন

একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। ৪৩টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ৬ শতাধিক নারী। মনোনয়ন পেতে আগ্রহীদের তালিকায় দলের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নারী নেত্রী, সাবেক ছাত্রনেত্রী, শিক্ষক, উদ্যোক্তা, অভিনেত্রী, শিল্পী, নামিদামি তারকারাও আছেন। তারা এখন জোর লবিং চালাচ্ছেন।

জানা গেছে, এবারের সংসদে বিগত দশম সংসদের সংরক্ষিত আসনের আওয়ামী লীগের এমপিদের মধ্যে তেমন কেউই থাকছেন না। আসছে নতুন মুখ। মনোনয়ন দিতে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। অনেকের আমলনামা এখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার হাতে। জনপ্রিয় নারীদের মনোনয়ন দিতে চান প্রধানমন্ত্রী। ২৫ জেলায় স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত জনপ্রিয় নারীনেত্রীর নাম অনুসন্ধান করছে আওয়ামী লীগ। নিজস্ব জরিপ ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। জেলা কোটা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত, ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে দুর্দিনের ভূমিকা এবং বিভিন্ন সেক্টরে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে এমন নারীরা একাদশ সংসদের সংরক্ষিত আসনের জন্য বিবেচিত হবেন। পাশাপাশি দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যেসব পরিবারের পুরুষ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ পদে নেই, সেসব পরিবারের নারীরাও এ পদের জন্য বিবেচিত হচ্ছেন। অধিকতর তরুণ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তিসম্পন্নদের প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। তবে গত সংসদের জনপ্রিয় ও বাকপটু কয়েকজন সংসদ সদস্য পুনরায় থাকতে পারেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। রাজনৈতিক দলগুলোও ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। জাতীয় সংসদের মোট সদস্য ৩৫০ জন। এর মধ্যে ৩০০টি সংসদীয় আসনে ভোটারদের সরাসরি ভোটে নির্বাচন হয়। আর ৫০টি আসন সংবিধান অনুযায়ী নারীদের জন্য সংরক্ষিত। সরাসরি ভোটে রাজনৈতিক দল ও জোটের পাওয়া আসনের আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত ৫০টি আসন বণ্টন করা হয়। সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ গ্রহণকারী ব্যক্তিরা সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনের ভোটার। গত ৩০ ডিসেম্বর ২৯৯টি আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, কোনো সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের তারিখ থেকে পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন করতে হবে। সে হিসাবে আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে ইসিকে এই নির্বাচন করতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি নির্বাচিত ছয়জন এমপির বিপরীতে একটি নারী আসন পাওয়া যায়। এবার আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৭ আসন পেয়েছে। সে হিসাবে ৪৩টি নারী আসন পাবে দলটি। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি (জাপা) পেয়েছে ২২টি আসন। তারা সংরক্ষিত নারী আসন পাবে ৪টি। ইতোমধ্যে তারা চার জনের নামও ঘোষণা করেছে। বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট শপথ গ্রহণ করলে ১টি আসন পাবে। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল মিলে পাবে বাকি দুটি আসন। প্রসঙ্গত, ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে।

জাতীয় নির্বাচনে টানা তৃতীবারের মতো বিজয়ী হবার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন মন্ত্রিসভায় নিয়ে এসেছেন ব্যাপক পরিবর্তন। সংরক্ষিত নারী আসনেও তিনি পরিবর্তন আনতে চান। জানা গেছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব নারী এমপি ছিলেন তারা পদটি ধরে রাখতে মরিয়া। আর নতুনরা চাচ্ছেন যোগ্যতাবলে নিজেদের জায়গা করে নিতে। বিতর্কিত ও অদক্ষতার কারণে এবার অনেকে বাদ পড়বেন। ক্লিন ইমেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী, জেলা পর্যায়ে ত্যাগী নেত্রীদের স্থান দিতে চান প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে প্রতিবারের মতো এবারও অন্য পেশার আলোকিত নারীরা সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে চান। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে ইঙ্গিত দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নারী নেত্রীরা গণভবনে যাওয়া-আসা বাড়িয়ে দিয়েছেন। দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগের নেত্রী ছাড়াও জেলার নেত্রীরাও এখন ঢাকায়। এমপি হবেন, এমন আশায় তারা ছুটে চলেছেন। গত কয়েকদিন গণভবন, ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এমন চিত্রই চোখে পড়েছে।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর দুইজন সদস্য জানান, যেসব জেলা থেকে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত নারী আসনে কেউ এমপি ছিলেন না, সেসব জেলার মহিলা, যুব মহিলা বা সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রীদের কারো কারো কপাল খুলতে পারে। কপাল খুলতে পারে অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র জগতের দুই-একজনেরও। আর সাবেক এমপি, কিন্তু পরবর্তীতে আর মনোনয়ন পাননি অথচ দলের জন্য অবদান আছে বা ভালো ইমেজ আছে, তাদের সংরক্ষিত আসনে এমপি বানানো হতে পারে। এ পদে আসতে পারেন পেশাজীবী দুই-একজনও।

আলোচনায় যারা: সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন: সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেছা তালুকদার, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট সান্দা খানম, জেবুন্নেছা আফরোজ, সায়েরা মহসীন, আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুন, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিল, যুব মহিলা লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, আওয়ামী লীগ নেত্রী আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, মাহজাবিন খালেদ বেবী, জান্নাত আরা হেনরী প্রমুখ। ন্যাপের কার্যকরী সভাপতি আমেনা আহমেদ ও জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য লুত্ফা তাহের এবং গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রুবী রহমানও ১৪ দলের মনোনয়নে আবার এমপি হতে চান।

এছাড়া প্রয়াত নেতাদের স্ত্রীদেরও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি পদে নিয়ে আসতে পারে আওয়ামী লীগ। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনের স্ত্রী জাকিয়া পারভীন খানম, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রয়াত এম এ আজিজের স্ত্রী রাবেয়া আজিজ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিলের স্ত্রী অ্যাডভোকেট নীলুফার আনজুম পপি, বঙ্গবন্ধুর চাচাত ভাই শেখ হাফিজুর রহমান টোকনের স্ত্রী শেখ এ্যানি রহমান প্রমুখ। অভিনেত্রী ও সংস্কৃতি কর্মীদের মধ্যে সারাহ বেগম কবরী, শমী কায়সার, অপু বিশ্বাস, রোকেয়া প্রাচী, জ্যোতিকা জ্যোতি এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরীকেও সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি বানানো হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here