Nakshi kantha Description Nakshi kantha, a type of embroidered quilt, is a centuries-old Bengali art tradition of the Bengal Region, notable in Bangladesh and Indian states of West Bengal and Tripura. The basic material used is thread and old cloth.
নকশিকাঁথা

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে নকশিকাঁথা সেলাই করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক নারীরা। আর্থিক ঋণ সহায়তা পেলে বাণিজ্যিক রূপ নিতে পারে এ হস্ত শিল্প। জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর গ্রামের নারীরা সংসারের অবসরে ঘরে বসে তৈরি করছেন মনলোভা নকশিকাঁথা। প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি করা কাঁথাগুলো দেখতেও শৌখিন। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আর্থিক ঋণ সহায়তা ও বাজারজাত করার সুযোগ পেলে ঘরে বসেই তারা হতে পারবে আরো স্বাবলম্বী।

উপজেলার আলমপুর গ্রামের নারী উদ্যোক্তা জোবেদা আক্তারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিজ গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী বেকার ১৫০ জন নারীদের নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন নারী জাগরনী মহিলা সমবায় সমিতির অর্ন্তভুক্ত নকশিকাঁথা তৈরির সংগঠন স্বদেশপ্রীতি, এর মধ্যে ৫০ জন নারীকে নিয়ে নিয়মিত নকশিকাঁথা তৈরির কাজ করছেন নিজ বাড়িতে। গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই নকশিকাঁথা সেলাইয়ের এই সংগঠন তৈরি করছেন তিনি।

জোবেদার এমন উদ্যোগে উৎসাহী আশপাশের কয়েকটি গ্রামের নারীরা সংসারের কাজের অবসরে কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই র্দীঘদিন থেকে নকশি কাঁথা তৈরি করছেন। নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি করা কাঁথাগুলো তারা বিভিন্ন গ্রামের বিত্তবানদের কাছে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। নিজে পরিশ্রম করে তারা স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন।

জোবেদা আক্তার আরো বলেন, প্রতিটি কাঁথা তৈরি করতে সুতা, কাপড় ও মজুরি সহ খরচ হয় সাধারন ডিজাইনের ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা, বিক্রয় করা হয় ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং উন্নত ডিজাইনের ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা, বিক্রয় করা হয় ৬ হাজার ৫০০ টাকা। কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটি কাঁথা তৈরি করতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ মাস। আর নিয়মিত ভাবে সেলাই করলে সময় লাগে ১ থেকে দেড় মাস। প্রত্যক কাঁথা থেকে কাঁথা তৈরি শিল্পীরা পারিশ্রমিক পায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। তিনি আরো জানান, সর্বনি¤œ বিভিন্ন ডিজাইনের ২০ টি কাঁথা তৈরি করতে পুজি লাগে প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। আমাদের নিজস্ব পুজি না থাকায় কাঁথা তৈরি করে রাখা সম্ভব হয় না। অর্ডার পেলে আমরা তা তৈরি করে দেয়। কাঁথার উল্লেখ্য যোগ্য ডিজাইনের মধ্যে রয়েছে- মাছের কাঁটা, গোলাপ ভরাট, নদীয়া, চাঁদ, পুকুর জোড়া, পাটি পুকরা, ব্লেড সেলাই সহ বিভিন্ন ডিজাইন। কাঁথা তৈরি শিল্পীদের দক্ষতার বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ আর আর্থিক সহযোগিতা পেলে এ শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটবে এমন দাবি আত্মপ্রত্যয়ী নারীদের। আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে গ্রামীণ নারীদের এই প্রচেষ্টাকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে এগিয়ে আসার দাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তিনি আরো বলেন, কাঁথা বিক্রয় করে যে লাভ হয় তা সমিতিতে জমা করি এবং তা সমিতির সদস্যদের কন্যাদান, নির্যাতিত, স্বামী পরিত্যাক্ত ও গর্ভবতী মায়ের সেবা সহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে ব্যয় করা হয়।

ক্ষেতলাল উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের আয়েশা খাতুন, ফুলদিঘি গ্রামের মর্জিনা বেগম, বানাইচ গ্রামের জায়েদা খাতুন, শিবপুর গ্রামের চ্যামেলী আক্তারসহ কয়েকটি গ্রামের নকশিকাঁথা তৈরি শিল্পীরা জানান, কাজের পর যে সময় হাতে থাকে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নকশিকাঁথা সেলাই করে বেশ কিছু টাকা আয় করি। এ আয়ের টাকা দিয়ে আমরা সংসার এখন ভালভাবে পরিচালনা করছি এবং ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া জন্য খরচ করছি।

বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা আসেন এই নকশিকাঁথা নিতে। রংপুর থেকে আসা লাইলা বেগম, বগুড়ার নিঝুম আক্তার ও নাটোরের পপি জানান, এখানকার নকশিকাঁথা বিভিন্ন ডিজাইনে তৈরি করা হয়। কাঁথাগুলো মান অনেক ভালো। এজন্য আমরা এখানকার নকশিকাঁথা কিনতে এসেছি।

জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সাবিনা সুলতানা জানান, ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর গ্রামসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের নারীরা নকশিকাঁথা সেলাই করে নিজেরাই স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা যদি মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর হতে রেজিষ্ট্রেশন ভূক্ত হয় তাহলে তাদেরকে আর্থিক ঋণ প্রদান করা হবে। তবে তাদের এ প্রচেষ্টাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে আরও দক্ষ করা হলে তাদের আয় আরও বাড়বে। এতে সংসারে আরও উন্নতি ঘটবে এবং তাদের সাফল্য আসবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here