খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এবার তিনটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের পর ঘোষিত ফলাফলের ভিত্তিতে আজ ‘সি’ এইউনিটের মেধা তালিকার প্রথম পর্যায় থেকে ভর্তি শুরু হয় সকাল ৯টা থেকে এবং তা চলে দুপুর ২ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

এই বিপুল সংখ্যক ভর্তিচ্ছুদের ভর্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অংকের টাকা জমাদান, ফরমপূরণ, কাগজপত্র জমাদান, চেকিং, হল এটাসমেন্টসহ বেশ কয়েকটি ধাপ রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভর্তি শেষ করতে একজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর বেশ বেগ পোহাতে হতো এবং সময় লাগতো অনেক বেশি।

এবছর ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রমের শুরুতেই উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান ভর্তির ক্ষেত্রে সময় কমানো এবং এই ভোগান্তি লাঘবে আইসিটি সেলকে সহজপ্রক্রিয়া উদ্ভাবনের নির্দেশনা দেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে আইসিটি সেল গত কয়েকমাস চেষ্টা চালিয়ে নতুন সফটওয়ার তৈরি করতে সক্ষম হয়। নতুন এই অটোমেশন পদ্ধতিতে এখন একই জায়গায় বসে ভর্তির সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অটোমেশন পদ্ধতিতে ভর্তি শুরু

একজন শিক্ষার্থী এক মিনিট করে সময় দিয়ে পাশাপাশি টেবিলে তার ভর্তির কাজ সম্পন্ন করতে পারছে। একই সময়ে চারজন করে ভর্তিচ্ছুকে ভর্তির জন্য চারটি বুথ খোলা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে ব্যাংকিং কার্যক্রম। মাত্র ১০-১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই যা সম্পন্ন হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা থেকে আসা একজন ভর্তিচ্ছু তাবাচ্ছুম তমার সাথে আলাপকালে সে জানায়, এতো স্বল্প সময়ে সহজভাবে ভর্তির কয়েকধাপ শেষ করতে পারবো ভাবতেই পারিনি। খুবই টেনশনে ছিলাম কতো সময় লাগে, ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হবে কি না, হলে যেতে হবে কি না এসব ভেবে। কিন্তু একই জায়গায় সব সুবিধা আনা হয়েছে এটা খুবই ভালো হয়েছে। একজন অভিভাবক বলেন ভর্তি প্রক্রিয়া খুব সহজ ও সুন্দর করা হয়েছে। আমারা অভিভাবকরা খুব খুশি।

আইসিটি সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. কামরুল হাসান তালুকদার জানান, এই অটোমেশন পদ্ধতি এবারই তৈরি করা এবং আজই প্রথম এটি বাস্তবে কাজে লাগানো হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় তো বটেই আর কোথাও এতো সহজ পদ্ধতিতে ভর্তি হয় কী না তা আমাদের জানা নেই। নতুন এ অটোমেটেড পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভর্তিতে খুবই কম সময় লাগছে এবং ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা একই জায়গায় বসে তা সম্পন্ন করতে পারছে।

এ ব্যাপারে ওই স্কুলের ভর্তি কমিটির সভাপতি ডিন প্রফেসর ড. উত্তম কুমার মজুমদার বলেন আমি কিছুদিন আগে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছি এবং ডিন হিসেবেও নতুন। কিন্তু সুন্দর, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠান ও ফলাফল ঘোষণার পর এখন ভর্তির যে কাজ হচ্ছে তা অত্যন্ত সহজ প্রক্রিয়ায় করা হচ্ছে। নতুন এ অটোমেশন পদ্ধতি উদ্ভাবনে তিনি আইসিটি সেলকে ধন্যবাদ জানান।

উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেন গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় আমি সবসময় চেয়েছি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘব করে সহজপ্রক্রিয়া চালু করা। ভর্তি প্রক্রিয়া সহজীকরণে নতুন সফটওয়ার উদ্ভাবনের জন্য তিনি আইসিটি সেলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন এখন থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তি, রেজিস্ট্রেশনসহ সকল প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে যাতে সময় কম লাগে এবং কোনো প্রকার ভোগান্তি পোহাতে না হয়।

তিনি বলেন ধীরে ধীরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল সুবিধা আনার চেষ্টা করছি এবং তা খুব শীঘ্রই সম্পন্ন হবে বলে আশা করি। উদ্ভাবক ও ব্যবহারকারীরা বলছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত এ নতুন ভর্তি প্রক্রিয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে লাগানো সম্ভব হবে।

সি ইউনিটে সাধারণ ৯১ টি আসনের মধ্যে ভর্তির পর ২৪ টি শুন্য রয়েছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২টি আসন শুন্য রয়েছে। আগামী ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রি. তারিখ মেধা তালিকার দ্বিতীয় পর্যায় থেকে উক্ত শুন্য আসনে ভর্তি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন ও সি ইউনিটের ভর্তি কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. ফিরোজ আহমেদ জানান।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২ ডিসেম্বর ‘এ’ ইউনিটের মেধা তালিকা থেকে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং আগামী ৬ ডিসেম্বর বি ইউনিটে মেধা তালিকা থেকে ভর্তি করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here