দীর্ঘদিন বড় ছুটি পাননি। এজন্য পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে ঢাকার বাইরে কোথাও ঘুরতে যেতে পারছেন না। এদিকে কাজের চাপে বেশ একঘেয়েমি অনুভব করছেন। সব মিলিয়ে ঢাকা কর্ম ব্যস্ত ও যানজটে নাজে হাল জীবন।

এমন বিরক্তি কাটাতে আপনি একদিনের ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার পাশে কিছু প্রাকৃতিক পরিবেশে। যা নিঃন্দেহে আপনার মনে প্রশান্তির বাতাস বয়ে আনবে। মনকে করবে পরিশুদ্ধ।

জেনে নেয়া যাক, ঢাকার আশপাশের ৫ টি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান সম্পর্কে।

১। ঢাকার আগারগাওয়ে অবস্থিত শেরে-বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়:

একটা বিকেল কাটাবার জন্য আদর্শ জায়ঘা এটি। চীন মৈত্রির সামনে নেমে রিক্সায় সোজা পশ্চিম দিকে রাস্তা। এখানকার সৌন্দর্য দেখার কয়েকটি স্থান রয়েছে। যেমন:

*দক্ষিণ গেট দিয়ে ঢুকে একেবারে উত্তর দিকে যেতে হবে। এরপর একটু পূর্ব দিকে এগোলেয় বড় পুকুর। সেখানে ঘাট বাধানো আছে।

*মুল ভবনের সামনে ধান ক্ষেতের মাঝে বড় বাধানো চত্তরটায়। এছাড়া ছাত্রী হলের সামনে সবুজে ঘেরা গাছ পালা রয়েছে।

এসব জায়গায় এক বক্স ভুনা খিচুরি, এক ফ্লাক্স চা আর কিছু স্নাক্স নিয়ে কয়েক ঘণ্টা কাটান। কোনো এক সুন্দর বিকেলে কিংবা এক চাদনী রাতে, বাচতে ইচ্ছে করবে আরো হাজার বছর।

২। রাণীগঞ্জ:

রাণীগঞ্জ হতে পারে ডে ট্রিপের জন্য আদর্শ একটি জায়গা। কাপাসিয়া ব্রিজের ডান পাশ দিয়ে একটি রাস্তা ধরে মাইল দশেক গেলেই রাণীগঞ্জ। জায়গাটি শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত। এই নদীতে রয়েছে সুন্দর একটি দ্বীপ। তাছাড়া নদীতে নৌকা ভাড়া করে ঘোরা যায়। নদীর ওপারের বাজারে পাওয়া যায় তাজা মাছ যা কোনো রেষ্টুরেন্ট দিয়ে রান্না করে খাওয়া যায়।

কিভাবে যাবেন: মহাখালি আইসিডিডিআর বি এর পেট্রল পাম্প থেকে ঘণ্টায় ঘন্টায় রাণীগঞ্জের বাস ছাড়ে। ভাড়া ৮০ টাকা। সময় লাগবে ২ ঘণ্টা। কাপাসিয়ার পর রাস্তা গাছ পালায় অসাধারণ এক রাস্তা।

৩। কলাকোপা বান্দুরা:

বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্যের বিশাল ভান্ডার কলাকোপা বান্দুরা ঘোরাঘুরির জন্য অসাধারণ একটি স্থান। এটি ঢাকা থেকে মাত্র ৩৫ কি.মি। ইছামতি নদী তীরে গড়ে ওঠা প্রায় ২০০ বছরের সমৃদ্ধ এই জনপদটি সম্পূর্ণ ভীড় ভাট্টা থেকে দূরে। তাই চলুন যেকোনো এক সকালে।

এখানে রয়েছে, ইতিহাস আর ঐতিহ্যের এক সমৃদ্ধ এলাকা। প্রথমেই দেখবেন লক্ষীনারায়ণ বিগ্রহ মন্দির। জলদস্যু থেকে দাতায় পরিণত হওয়া খেলারামের কথা আজো ভোলেননি সেখাকার মানুষ।

এছাড়া সেখানো আরো রয়েছে, কোকলিপেয়ারি জমিদারবাড়ি, জমিদার ব্রজেন সাহার ব্রজ নিকেতন, মঠবাড়ি বা তেলিবাড়ি, মধু বাবুর পাইন্নাবাড়ি, সামসাবাদ ও আসানপুর তাঁতপল্লি।

কিভাবে যাবে: গুলিস্তান মাজারের কাছ থেকে কলাকোপা বান্দুরাগামী বাস ছাড়ে প্রতি ঘণ্টায়। ২ ঘণ্টা সময় লাগবে।

৪। বেলাই বিল, গাজীপুর:

গাজীপুরের চিলাই নদী এবং সংলগ্ন বেলাই বিল হতে পারে একদিন কাটাবার আদর্শ জায়গা। বিশাল জলাভূমিতে নৌকায় করে সারাদিন পার করতে পারবেন। জেলেদের মাছ ধরা বাড়তি আনন্দ দিতে পারে। সকাল ও বিকালে তাজা মাছ পাওয়া যায় এখানে। আসার সময় কিনে নিয়ে আসতে পারেন।

কানাইয়া বাজারের পাশেই চিলাই নদী। এখানে একটা নৌকা ভাড়া করে নিন। ছোট নৌকা হলে সারাদিন ৫/৬ শ টাকা নিবে। বড় নৌকা হলে ২০০০ টাকা। রাতে নৌকাতেই থাকতে পারবেন। এটা করলে বাজার কমিটিকে জানিয়ে রাখতে ভুলবেন না।

কিভাবে যাবেন: মতিঝিল বা মহাখালি থেকে গাজীপুরগামী বিআরটিসি বা গাজীপুর পরিবহনের বাসে উঠুন। গাজীপুর শিববাড়ি মোড়ে নেমে একটু হেটে গিয়ে কানাইয়া বাজার যাবার টেম্পুতে উঠুন। ৩০ মিনিট পর কানাইয়া বাজারে নামুন। ভাড়া নেবে ১০ টাকা।

৫। জিন্দা পার্ক:

রুপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরের জিন্দা গ্রামে বিশাল এলাকার উপর গড়ে তোলা হয়েছে জিন্দা নামের এই পার্কটি। অপস নামের একটি সামাজিক সংগঠনের অর্থায়নে এ পার্কটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। টিলা আর লেক বেষ্টিত এই পার্কের ভেতরে আছে দ্বি-পুকুর। লেকে নৌকায় চড়ে ভ্রমনের সুযোগ। পার্কের ভেতরেই রয়েছে মার্কেট। সেখানে সব ধরণের কেনাকাটা করতে পারে দর্শণার্থীরা। আছে লাইব্রেরী, ক্যান্টিন, প্রাণী জগত। পার্কের ৫০ ভাগ জুড়ে আছে লেক।

লেকের পাড়ে ফুলের বাগানে নিরিবিলি চুটিয়ে আড্ডা দেবার মতো জায়গা রয়েছে। পার্কে আছে বাংলো, রেস্টুরেন্ট, স্লিপার, দোলনা।

কিভাবে যাবেন: কুরিল ফ্লাইওভার থেকে ৩০০ ফিট হয়ে পুর্বাচল পেরিয়ে বায়ে সিটি বাইপাচ দিয়ে ১ কি.মি সামনে গেলে হাতের ডান পাশে জিন্দা পার্ক। কুরিল ফ্লাইওভারের নিচে কা অথবা সি এন জি পাওয়া যায়। লোকাল ট্রিপ কাঞ্চন পর্যন্ত ৪০-৫০ টাকা, তারপর অটো ১০ টাক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here